সংরক্ষণাগার

সংসারের ঘানি টানতে মাটির জিনিস বিক্রি করছেন বৃদ্ধা গৌর চন্দ্র
জামালপুরনির্বাচিত সংবাদসরিষাবাড়ী

সংসারের ঘানি টানতে মাটির জিনিস বিক্রি করছেন বৃদ্ধা গৌর চন্দ্র

নিজস্ব প্রতিনিধি :  মাটির তৈরি বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনী সামগ্রী বিক্রি করে সংসারের ঘানি টানছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের বাড়ইপটল পালপাড়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা গৌর চন্দ্র। পেটের দায়ে প্রতিদিনই এ গ্রাম থেকে ওগ্রামের মেঠো পথ ধরে ধরে মাটির তৈরি বিভিন্ন তৈজসপাত বিক্রি করতে হাক ছাড়েন তিনি।

শুধু গৌর চন্দ্রই নয়ই- এখানে আদিকাল থেকেই কুমারদের বসবাস রয়েছে। এ কারণে পালপাড়াকে অনেকে কুমারপাড়া নামেও ডাকে। গৌর চন্দ্রের বাপ-দাদার পেশাও ছিল মাটির তৈরি হাড়ি-পাতিল ও গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করা।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় মাটির বাসন ও তৈজসপত্রের চাহিদা হারিয়ে যেতে বসেছে। তবু পুর্বপুরুষের পেশা ছাড়তে পারেননি গৌর চন্দ্র। বয়সের ভারে নুব্জ হয়ে আছেন, তবু মাথায় করে ঝাঁকা ভর্তি মাটির তৈরি প্রয়োজনীয় ও সৌখিন জিনিস ফেরি করে বেড়াচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি কথা হয় গৌর চন্দ্র সাথে।

গৌর চন্দ্র জানান,“মাটির তৈরি জিনিসপত্র গ্রামের মানুষের কাছে তেমন কোন চাহিদা না থাকায় খেয়ে না খেয়ে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন গাড়ি চলছে ধিক ধিক করে। তিন মেয়ে এক ছেলের সংসারে অনেক কষ্টে দিন আমার। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। ঘরে রয়েছে বিবাহ যোগ্য আরো ২টি মেয়ে। অন্য কোনো কাজ করার সামর্থ্যও নেই । তাই বাধ্য হয়ে এই বয়সেও মাটির পাতিল, খোড়া, কাসা, চালুন, ব্যাংক, কলসি, ফুলদানি, পশু-পাখি, সানকি বিক্রি করছি”।

ষাটোর্ধ্ব এ কুমার বলেন, প্রতিদিন কম-বেশি বেচাবিক্রি করতে পারি। যা আয় হয় তা দিয়ে কোনোরকমে চলে। মাঝেমধ্যে কিছু সাহায্য পেয়েছি। কিন্তু স্থায়ী কোনো সুবিধা পাইনি। জীবন সংগ্রামে আমি এক পরাজিত সৈনিক”।

একই গ্রামের সুনীল পাল জানান, বাপ-দাদার চৌদ্দ পুরুষের পেশা ছিলো মাটির হাড়ি পাতিল তৈরি করা। আগের দিনে নৌকাযোগে দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করতেন মাটির তৈরি তৈজসপত্র। এককালে এ জিনিসপত্রের চাহিদা ছিল অনেক। কালের পরিবর্তনে আজ আমাদের এ পেশা শূন্যের কোটায়”।

রাখাল চন্দ্র পাল নামে আরেক ব্যক্তি জানান , “আগের দিনে ট্রেন ঝাঁকা (বাঁশের তৈরি মাটির পাত্র নেওয়ার খাঁচা) ভরে সরিষাবাড়ি নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে মাটির তৈরি জিনিস বিক্রি করে আবার ট্রেন দিয়ে বাড়ি চলে আসতাম। এখন আর কেউ মাটির তৈরি জিসিন নিতে চায়। এখন আমাদের সংসার খুব কষ্টে চলছে”।

পিংনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন জয় জানান, “গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ পেশা বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। দেশে বিভিন্ন স্থানে মেলার আয়োজন করে মাটির তৈজসপত্রের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে হবে। পাশাপাশি কুমারদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে। তা নাহলে এ শিল্প ইতিহাসে পরিণত হবে।

এস আর /জামালপুর লাইভ

মন্তব্য করুন