সংরক্ষণাগার

সারাদেশ

বিয়ের ৩ বছর পর ধুমধাম করে ‘প্রথাভাঙা’ গায়ে হলুদ

বিয়ে হয়েছিল ২০১৭ সালে। এরই মধ্যে তার কোলজুড়ে এসেছে একটি ফুটফুটে বাচ্চা। এমন পরিস্থিতিতেই গত ১৩ আগস্ট মোটরসাইকেল চালিয়ে ধুমধাম করে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান করে আলোচনায় যশোরের মেয়ে ফারহানা আফরোজ।

বিয়ের তিন বছর পর গায়ে হলুদের দিনে শহরজুড়ে বন্ধুদের নিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেন কনে ফারহানা আফরোজ। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের ছবি ও ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল। অনেকে এই ঘটনাকে প্রথাভাঙার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন।

ফারহানা আফরোজ বলেন, ২০১৭ সালে যখন বিয়ে হয় তখন স্টুডেন্ট ছিলাম। লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে তখন বিয়ের অনুষ্ঠান করা হয়নি। তাই তিন বছর পর পরিবারের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানকে ব্যতিক্রমী করতে ভিন্নধর্মী ভাবনা থেকেই এমন আয়োজন।

তিনি বলেন, ঢাকাতে অহরহ হলুদের অনুষ্ঠানে ছেলেদের বাইক নিয়ে আর মেয়েদের নেচে গেয়ে অংশগ্রহণ করতে দেখেছি। তাই আমি যেহেতু বাইক চালাতে পারি সেজন্যই পার্লার থেকে বের হয়ে শহরে বাইকে ঘুরে বন্ধুদের নিয়ে ঘোরাঘুরি করে হলুদের অনুষ্ঠানে যাই। আর এতে সবাই মিলে ঘোরাও হল, আনন্দও হল আবার একটি উৎসবও হয়ে গেল।

করোনা আতঙ্কে বন্দীদশা থেকে বেরিয়ে সবাই নেচেগেয়ে হলুদের অনুষ্ঠান করতে পেরে উচ্ছসিত ফারহানার বন্ধুরাও।

ব্যতিক্রমী এ ভিডিও ধারণ করে আলোচনায় আর্টিস্ট্রি মোমেন্টস মিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটি চিফ ফটোগ্রাফার নাহারুল হায়াত তরু বলেন, অনেক বিয়ের অনুষ্ঠানে ভিডিও করেছি। কিন্তু এমন ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান এর আগে কখনো করিনি।

ভিডিওগ্রাফার ইমরান বলেন, এ ধরনের কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আর ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর আমরা প্রচুর ফোন পাচ্ছি।

যশোরে সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মোস্তফা হুমায়নি কবির বলেন, করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলেও এমন উল্লাসকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। আমাদের দেশ উৎসব প্রিয় দেশ। আর যশোরের মেয়ে ফারহানা যে সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে এটা বিয়ের উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ফারহানা আফরোজের বাড়ি যশোর সার্কিট হাউজের সামনে। যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে এসএসসি ও ২০১৩ সালে যশোর আব্দুর রাজ্জাক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এখন ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করছেন। ২০০৭ সাল থেকেই তিনি বাইক চালান।

মন্তব্য করুন