সংরক্ষণাগার

ইসলামপুরউন্নয়নে জামালপুরজামালপুরনির্বাচিত সংবাদ

“ভাবতেও পারিনি ইটের ঘরে ঘুমাবো”

সাহিদুর রহমান,ডেস্ক নিউজ  :  “এক চালার ছাপড়ার নিচে কোন রকমে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলাম। গ্রীস্মে গরম,বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে ভিজে ও শীত কালে কনকনে ঠান্ডায় না ঘুমিয়েও রাত কাটিয়েছি। স্মামীর রেখে যাওয়া সামান্য জায়গা ছিল। কিন্তু ঘর বানানোর সামর্থ্য ছিল না। সরকারি টাকায় পিআইও অফিস ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। ভাবতেও পারিনি আমি ইটের তৈরি ঘরে ঘুমাবো, আজ আমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে সরকার। এটাই আমার স্বপ্নের রাজবাড়ি।” গতকাল শুক্রবার সকালে এ প্রতিবেদক সরেজমিনে গেলে এ কথাগুলো বলছিলেন, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের মলছন বেওয়া(৭২)।

শুধু মলছন বেওয়াই নন, চিনাডুলী’র সুন্দরী বেগম,নোয়ারপাড়া’র গোলাপ ফুল বেওয়া,বেলগাছা ইউনিয়নের ছামেনা বেওয়া, পৌর শহরের মৌজাজাল্লাহ গ্রামের হাওয়া বেওয়াসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌর শহরের ৫২টি উপকারভোগী অসচ্ছল পরিবার ঘর পেয়ে তারা নানা রকম অনুভূতি প্রকাশ করে বলেছেন, এটা যেন আমাদের কাছে ছিল আকাশ কুসুম কল্পনার মতো। আমাদের অভাব অনটনের কারণেই আমরা একটি দু’চালা টিনের ঘরও তুলতে পারিনি। পরিবার পরিজন নিয়ে ছাপড়া ঘরেই খুব কষ্ট করে জীবন যাপন করে আসছিলাম। আমাদের সারাজীবনের স্বপ্ন বিনামূল্যে পাকা ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আল্লাহ যেন তাকে দীর্ঘ জীবি করেন।

জানাগেছে, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রণাবেণ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূটির বিশেষ বরাদ্দের দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণে প্রতিটি ঘরের বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫শ’ ৩১ টাকা। এ উপজেলার ১২ ইউনিয়নের ৪৬ ও পৌরশহরের ৬টি পরিবারসহ মোট ৫২টি অসচ্ছল পরিবারকে একটি করে দুর্যোগ সহনীয় টিনসেড পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানান, প্রায় ৫০০ বর্গফুটের প্রতিটি ঘরে দুটি ক্ক্ষ, একটি করিডোর, একটি বাথরুম ও একটি রান্নাঘর রয়েছে। দুর্যোগ সহনীয় এসব ঘর টেকসই এবং প্রতিটি ঘরেই সোলার সিস্টেম আর বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা রয়েছে।

এস আর/জামালপুর লাইভ

মন্তব্য করুন

error: কপি করা থেকে বিরত থাকুন