Archives

বিশ্ব সংবাদ

মিয়ানমারে নিহত বেড়ে ৩২০, ব্রিটেন-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

মিয়ানমারে নিহত বেড়ে ৩২০, ব্রিটেন-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

নিউজ ডেস্ক: মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রতিদিনই জান্তাবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হচ্ছে সরকারি বাহিনী। বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। এ পর্যন্ত দেশটিতে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা তিনশ’ ছাড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবারও (২৫ মার্চ) নিহত হয় আরও ৯ জন। শুক্রবার অ্যাডভোকেসি গ্রুপ অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ৩২০ নিহত হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মিয়ানমারে বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুন, মধ্যাঞ্চলীয় মনোয়াসহ আরও কয়েকটি শহরের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। এর মধ্যে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় তাউঙ্গি শহরেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে অন্তত চার বিক্ষোভকারীকে।

হিনথার মিডিয়া করপোরেশন জানিয়েছে, পুলিশ মওলামাইন শহরে বিক্ষোভকারীদের দিকে গুলি চালিয়েছে এবং অন্তত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। গুলিতে অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন।

এসব ঘটনার জেরে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। খবর রয়টার্সের।

এদিকে, মায়ানমা ইকোনমিক পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড এবং মিয়ানমার ইকোনমিক করপোরেশন লিমিটেডের ওপর ব্যবসায়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগ।

এ নিষেধাজ্ঞার ফলে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান দুটির যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেকোনও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বা ব্যবসায়িক লেনদেন রাখতে পারবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী, সেনাবাহিনীর অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত দমন-পীড়নে সমর্থনকারীদের অর্থপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মায়ানমা ইকোনমিক পাবলিক কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাজ্যও। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মানবাধিকারলঙ্ঘন এবং জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিকি রাব বলেছেন, এধরনের নিষেধাজ্ঞায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর গণনিপীড়নে ব্যবহৃত অর্থের উৎসে টান পড়বে।

এর আগে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। অবশ্য তারও আগে থেকেই মিয়ানমার সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্ত।

এএপিপি বলেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিদিনই ঘটছে দেশটিতে।

মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে খিন মিয়ো চিট নামের সাত বছরের এক শিশু নিহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ।

দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে প্রাইস বলেন, সন্ত্রাসের মাধ্যমে কেউ সরকার পরিচালনা করতে পারে না।

গত মঙ্গলবার সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ১৬৪ জন বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নয় সদস্য নিহত হয়েছেন।

এএপিপি-র তথ্য দেখা গেছে, মারা যাওয়াদের মধ্যে কমপক্ষে ২৫ শতাংশের মাথায় গুলি লেগে মারা গেছে। মৃতদের প্রায় ৯০ শতাংশ পুরুষ এবং প্রায় এক তৃতীয়াংশের বয়স ২৪ বা তদুর্ধ্ব।

সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, বিক্ষোভে কমপক্ষে ২০ জন শিশু মারা গেছে। সূত্র: বার্তা২৪.কম

এসএসআর/জামালপুর লাইভ

বার্তা সম্পাদক
%d bloggers like this: