Archives

জামালপুরনির্বাচিত সংবাদমাদারগঞ্জ

মাদারগঞ্জে গ্যাস অনুসন্ধান কাজে অগ্রগতি নেই

মির্জা হুমায়ুন কবীর , নিজস্ব প্রতিনিধি : গ্যাস কুপ খনন কোম্পানির অনিহার কারণে জামালপুরের মাদারগঞ্জে সেই রবিউলের গ্রামে গ্যাস অনুসন্ধান কাজে অচল অবস্থা দেখা দিয়েছে । ভূমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়নের পর দীর্ঘদিনেও গ্যাস অনুসন্ধান কাজ শুরু না হওয়ায় এলাকাবাসীর মনে নানা প্রশ্ন ও হতাসার সৃষ্টি হচ্ছে ।

জানা গেছে, উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া গ্রামে রবিউল ইসলাম নামে এক কৃষক ২০১২ সাল থেকে মাটিতে বুদবুদ উঠা গ্যাসের সাহায্যে কৃষি জমিতে সেচযন্ত্র চালিয়ে আসছেন। ২০১৪ সালের ২মার্চ এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। পরে সে সময়কার জামালপুর জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান তারতাপাড়া গ্রামে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ বরাবরে চিঠি পাঠান।

পরবর্তীতে ভূতাত্বিক জরিপে তারতাপাড়া গ্রামে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এরপর পেট্রোবাংলার তেল-গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্প রূপকল্প-৩ এর আওতায় মাদারগঞ্জ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৭ সালে গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রায় ১শ’ ৩৫ কোটি টাকার ওই প্রকল্পের প্রায় ৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়ন এবং লিংক রোড নির্মাণ কাজ শেষ হলেও প্রকল্পের গ্যাস অনুসন্ধান কাজ শুরু হচ্ছেনা। ১ বছর ধরে মাঝে মাঝে প্রকল্প এলাকায় দু’একজন লোক আসা যাওয়া করলেও কোন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে রূপকল্প-৩ এর প্রকল্প পরিচালক মো. মিজনুর রহমানের জানান, রূপকল্প-৩ এর ব্রাহ্মনবাড়িয়র কসবা-১ ও মাদারগঞ্জ-১ এলাকা অন্তর্ভুক্ত।

আজারবাইজানের গ্যাস কুপ খনন প্রতিষ্ঠান সকার (স্টেট ওয়েল কোম্পানী অব দ্যা আজারবাইজান রিপাবলিক) মাদারগঞ্জ-১সহ সেমুতাং ও বেগমগঞ্জে গ্যাস কুপ খননের কাজ পায়। প্রথমে প্রতিষ্ঠানটি খাগড়াছড়ির মানিকছরি উপজেলার সেমুতাংএ খনন কাজ চালায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেখানে গ্যাস পাওয়া যায়নি। পরে ওই কোম্পানির লোকজন তাদের রিগ যন্ত্রসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি নিয়ে বেগমগঞ্জে যায়। কিন্তু সেখানে গ্যাসকুপ খননের আগে সকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে তারা আর গ্যাস কুপ খনন করবে না বলে প্রকল্প পরিচালক বরাবরে টার্মিনেশন লেটার পাঠায়। টার্মিনেশন লেটারে প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি মোতাবেক সময় মতো টাকা পরিশোধ না করার কথা উল্লেখ করেছে।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, সেমুতাং কুপ খননে জন্য তারা চুক্তির কিছু টাকা অগ্রিম চেয়েছিলো, সেটা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ওই কুপ খনন কাজ শেষে কিছুটা দেড়িতে হলেও খননের পুরো টাকাই পরিশোধ করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হয়তো তাদের সামর্থ্য না থাকা কিংবা অন্য কোন কারণে সকার বাংলাদেশ থেকে চলে যেতে চাচ্ছে। তবে আমরা তাদের টার্মিনেশন লেটার মানিনি। প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, আরো ৪মাস চুক্তির মেয়াদ আছে। এ সময়ের মধ্যে সকার কাজ শুরু না করলে আমরা দেশী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে দিয়ে মাদারগঞ্জে কাজ করাবো। তবে সেক্ষেত্রে আবার নতুন করে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

গ্যাস অনুসন্ধান কজে স্থবিরতার বিষয়ে মোবাইল ফোনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ এই প্রতিবেদককে বলেন, বিদেশী কোম্পানী যেকাজ ২৫-৩০ কোটি টাকায় করে, বাপেক্স সেটা ১০কোটি টাকায় করতে পারে। আজারবাইজানের কোম্পানীর চাইতে বাপেক্সের সক্ষমতাও কম না। পেট্রোবাংলা ইচ্ছা করলে প্রথমেই কুপ খননের দায়িত্ব বাপেক্সকে দিতে পারতো।

এক প্রশ্নের জবাবে আনু মোহাম্মদ আরো বলেন, স্থলভাগে কুপ খননের দায়িত্ব বিদেশী কোম্পানিকে দেওয়ার উদ্দেশ্যই হলো কমিশন বানিজ্য এবং দীর্ঘসূত্রীতা সৃষ্টি করে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানীর সুযোগ সৃষ্টি করা।

বিদেশী কোম্পানিগুলোকে কাজ দেওয়া প্রসঙ্গে রূপকল্প-৩ এর প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, বাপেক্স বছরে বড়জোড় ৩-৪ টি কুপ খনন করতে পারে। এক সাথে অনেক জায়গায় গ্যাস কুপ খননের জন্যই তৎকালিন ম্যানেজমেন্ট বাপেক্সের পাশাপশি বিদেশী কোম্পানীগুলোকে কাজ দেয়। তিনি বলেন বাপেক্স বর্তমানে কুমিল্লায় বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের দুটি ওয়ার্ক ওভার কাজে ব্যাস্ত আছে।

এছাড়া কুমিল্লার মুরাদনগরে শ্রীকাইল ইস্ট নামে একটি কুপ খনন কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাপেক্স । তাদের খনন যন্ত্রসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি সেখানে চলে গেছে। খুব শিঘ্রই বাপেক্স সেখানে কাজ শুরু করবে।

বার্তা সম্পাদক
%d bloggers like this: