Archives

ইসলামপুরজামালপুরজামালপুর সদরনির্বাচিত সংবাদ

বন্যায় জামালপুরে পাকা রাস্তার ক্ষতি হয়েছে ২১৩ কোটি টাকা

সাহিদুর রহমান : কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় জামালপুর জেলার ইসলামপুর,দেওয়ানগঞ্জ,মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, বকশীগঞ্জ ও জামালপুর সদর উপজেলায় ৭শত ২১ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ভেঙে গেছে। এতে প্রায় ২১৩ কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা এলজিইডি বিভাগ সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকালে এই হিসাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে প্রায় ১ মাস আগে বন্যার পানি নেমে গেলেও এখনো মেরামত করা হয় নাই রাস্তাঘাট গুলো । যার ফলে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। তবে জেলা এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা বিভাগ বলছে গত ২২ আগস্টে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট প্রাথমিকভাবে মেরামত করে চলাচলের উপযোগি করার জন্য তিন থেকে চার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী জানা গেছে ,২ হাজার ৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এবং ১ হাজার ৭০৮ কিলোমিটা পাকা রাস্তা বন্যার পানিতে ডুবে ছিলো। এতে এলজিইডির প্রায় ৭শ ২১ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব রাস্তায় ২১২ মিটার ব্রীজ ও ৪টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,প্রায় এক মাস আগে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে রাস্তাঘাট ক্ষতবিক্ষত অবস্থা মাথায় নিয়ে জেগে উঠেছে। বেশির ভাগ জায়গায় ভেঙে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোন কোন সড়কের চিহ্ন একেবারেই বেহাল। ঝুঁকি নিয়েই এসব সড়কে যানবাহন চলাচলা করছে। আবার অনেক জায়গায় এখনো সড়ক যোগাযোগ বন্ধ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে জেলার ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী,নোয়ারপাড়া,কুলকান্দি ইউনিয়ন ও মেলন্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় , রাস্তাঘাটসহ চারপাশে কেবলই ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে। রাস্তাগুলোতে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার খোয়া পর্যন্ত পানির তোড়ে ভেসে গেছে।

কিছুদুর পরপর রাস্তা ভাঙা ও বড় বড় গর্ত। এছাড়া কাঁচা রাস্তাগুলো মাটি সরে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। কাঁচা, পাকা সড়কগুলো ভেঙে বিভিন্ন জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় পায়ে হেঁটে চলাচল করতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের ওলিয়া এলাকার মাসুদ মিয়া জানান, “ওলিয়া বাজার হয়ে সোনামুখী, জনতা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩০থেকে ৪০টি জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় পাকা সড়কটি ভেঙে লন্ডভন্ড হয়েছে। হঠাৎ কেউ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে তাকে হাসপাতালে, ডাক্তারের কাছে নিতে হিমশিম খেতে হয়”।

জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, “পুরো জেলায় রাস্তার পরিমাণ হচ্ছে ৪ হাজার ৩২৩ কিলোমিটার এর মধ্যে পাকা রাস্তার পরিমাণ এক হাজার ৭০৮ কিলোমিটার। তৃতীয় দফা বন্যায় জেলায় ৭শ ২১ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ও ২১২ মিটার ব্রিজ এবং ৪টি কালভার্ট আংশিক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলে প্রায় ২১৩ কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান”।

এস আর /জামালপুর লাইভ

বার্তা সম্পাদক
%d bloggers like this: