Archives

ইসলামপুরউন্নয়নে জামালপুরজামালপুরনির্বাচিত সংবাদ

‘ জীবনেও ভাবিনাই পাকা ঘরে ঘুমাবো ’

‘ জীবনেও ভাবিনাই পাকা ঘরে ঘুমাবো ’

সাহিদুর রহমান : ‘গোটা জীবনটা ভাঙা ছাপড়া ঘরেই কাটিয়েছি, নুন আনতে পানতা ফুরায়, কিসের জন্য স্বপ্ন দেখবো পাকা ঘরের জন্য। কিন্তু শেষ বয়সোত আসি প্রধানমন্ত্রী আমাইকে পাকা ঘরের ব্যবস্থা করে দিছে। আমি কখনো ভাবি নাই পাকা ঘরে ঘুমাবো। এহন আমি পাকা ঘরে শুইতে পারছি’।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে সেমি পাকা বাড়ি পেয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছিলেন জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সিরাজাবাদ এলাকায় ভূমিহীন ৬৫ বছরের ফুলবানু বেওয়া। শুধু ফুলবানু বেওয়াই নন এই উপজেলায় দুহুনি বেওয়া,আসমত আলী, সৈয়দ আলীও জানান একই কথা।

তারা জানান, ‘আমাদের বসতভিটা জমিজমাসহ গাংগে (নদীতে) চলে গেছে,অন্যজনের জমিতে কোন রকম ছাপড়া ঘর তুলে ছিলাম। স্বপ্নেও ভাবিনি জমি ও ইটের পাকা ঘরে ঘুমাতে পারবো। কিন্তু সেই স্বপ্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে পূরণ হয়েছে। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার সুস্থতা কামনা করেছেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় সরকারি খাস জমিতে ‘ক’ শ্রেণির ৮৮টি ভূমিহীন পরিবারের বসবাসের জন্য তৈরী করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সেমি পাকা বাড়ি।

উপজেলায় খাস জমি খুজেঁ ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ২শতাংশ জমি দিয়ে এসব ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। রান্নাঘর সংযুক্ত টয়লেটসহ অন্যান্য সুবিধা থাকছে এসব বাড়িতে। দুই ক বিশিষ্ট প্রতিটি আধাপাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। গৃহ নির্মাণের সরাসরি কাজের তদারকি করছেন উপজেলা প্রশাসন ।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম.মাজহারুল ইসলাম জানান, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য এ উপজেলায় ৮৮টি ঘরের মধ্যে ৭০টি ঘরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকী ১৮টি ঘরের নির্মাণ কাজ ৯০ শতাংশ হয়েছে।

আগামীকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে একযোগে ঘর প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধনের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরপরই এ উপজেলায় আনুষ্ঠানিক ভাবে জমি ও ঘরের দলিলপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হবে প্রতিটি পরিবারের হাতে।

এস আর /জামালপুর লাইভ

বার্তা সম্পাদক
%d bloggers like this: