Archives

জাতীয়

‘চিৎকার করে অধিকার আসে না, অধিকার আদায় করে নিতে হয়’

করোনার সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা, প্রধানমন্ত্রীর তিন নির্দেশনা

নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে নারীরা সর্বক্ষেত্রে সুযোগ পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে মেয়েরা সুযোগ পাচ্ছে। খেলাধুলা এভারেস্ট বিজয় থেকে সর্ব ক্ষেত্রে নারীদের বিচরণ আছে। সব জায়গায় নারীরা সুযোগ পাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরেই নারীদের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। যেটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ই চিন্তার ফসল।

তিনি বলেন, ‘নারীদের অধিকার দাও, নারীদের অধিকার দাও বলে শুধু চিৎকার করা বা বলা আর বক্তৃতা দেওয়া এতে কিন্ত অধিকার আসে না, অধিকারটা আদায় করে নিতে হবে। আদায় করবার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। আর সেই যোগ্যতা আসবে শিক্ষা দীক্ষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে।’

সোমবার (০৮ মার্চ) দুপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২১ উপলক্ষে জয়িতা পুরস্কার প্রদান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকার প্রধান একথা বলেন।

এবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব।’ গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা স্বাধীনতার পর এদেশে নারী শিক্ষা অবৈতনিক করে দিয়েছিলেন। কারণ অনেক সময় অনেকেই মেয়েদের জন্য শিক্ষার খরচ করতে চায় না। সে জন্য নারী শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক এবং অবৈতনিক করে দিয়েছেন। প্রাথমিক পর্যন্ত সম্পন্ন অবৈতনিক করে দিয়ে যান তিনি। আমরা সরকারে এসে একেবারে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তি দিচ্ছি এবং প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা তহবিল ট্রাস্টে প্রায় ৭৫ ভাগই মেয়ের পেত, এখন প্রায় ৭০ ভাগ মেয়েরা পেয়ে থাকে।

তিনি বলেন, একটা সমাজকে যদি গড়ে তুলতে হয় তাহলে শিক্ষার ক্ষেত্রেও নারীদের সুযোগ দিতে হবে। এখন সব জায়গায় নারী, এসপি, ডিসি, ইউএন, ওসি থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রেই মেয়েদের অবস্থানটা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সমাজের অর্ধেক যদি অঁকেজো থাকে সেই সমাজ তো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলবে। আর সংসদের কথা নাই বললাম। বর্তমানে সংসদে স্পিকার নারী, বিরোধী দলীয় নেতা নারী, উপনেতা নারী, সংসদ নেতা সবই মহিলা রয়েছে। সেটা আমরা স্থান করে নিয়েছি। কাজেই আমি মনে করি এটাই আমাদের সব থেকে বড় অর্জন।

তিনি বলেন, ধর্মের নাম নিয়ে সামাজিকতার কথা বলে মেয়েদের ঘরে বন্দি রাখার একটা প্রচেষ্টা ছিল। সেই অচলায়তন ভেদ করে বের হয়ে মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম ই নারীদের অধিকার দিয়েছে এটা জাতির পিতা তার আমার দেখা নয়াচীন গ্রন্থে বলে গেছেন। ইসলাম ধর্ম প্রথম গ্রহণ করে একজন নারী তিনি বিবি খাদেজা।

তিনি বলেন, আমাদের দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আজকে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমার বাবা সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন দিনের পর দিন কারাগারে ছিলেন। কিন্ত আমার মা’কে দেখেছি তার পাশে থেকে কিভাবে সহযোগিতা করেছে। শুধু তাই না তার নিজের জীবনের কোন চাওয়া পাওয়া ছিল না। একজন নারী হিসেবে স্বামীর কাছে যে কোন দাবি সেটাও ছিল না বরং সম্পূর্ণ সংসারের দায়িত্ব আমার মা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন জেলে থাকতেন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের কার্যক্রম দেখা, আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলা সবকিছু কিন্তু তিনি করতেন পর্দার আড়ালে থেকে করেছেন, কখনো তিনি কোন প্রচার চাননি। আজকে স্বাধীনতা অর্জন করেছি তার পেছনে আমার মা ফজিলাতুন নেসা মুজিবের অনেক অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, আমার মা অনেক সময় অনেক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন যা স্বাধীনতার অর্জনকে তরান্বিত করেছিল। আমার বাবাকে দেখেছি তিনি যথেষ্ট সন্মান দিতেন এবং গুরুত্ব দিতেন আমার মায়ের মতামতকে। যে কোন অর্জনের পেছনে একজন নারীর যে অবদান থাকে সেটাই হচ্ছে বড় কথা। আমাদের এই সমাজকে যদি এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই তাহলে সব থেকে বড় প্রয়োজন নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলে এক হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হবে।

সরকার প্রধান বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমরা হারাই পরিবারের সকলকে কিন্তু বাংলাদেশ হারিয়েছিল তার সকল সম্ভবনাকে। ২১ বছর পর যখন আওয়ামী লীগ সরকারের আসে তখন এদেশে নারীর উন্নয়ন ঘটে এবং নারীমুক্ত ঘটে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। আজকে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছি। আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে কারণ আমরা নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলে মিলে ধর্ম বর্ণ সকলে মিলে প্রিয় মাতৃভূমি লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভূমিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।
সূত্র: বার্তা২৪.কম

এসএসআর/জামালপুর লাইভ

বার্তা সম্পাদক
%d bloggers like this: