Archives

বিশ্ব সংবাদ

কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল ভারত

কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল ভারত

নিজস্ব প্রতিনিধি : ভারতে কৃষক আন্দোলনের ইতিহাস পুরনো। ব্রিটিশ আমলে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বহু কৃষক বিদ্রোহ হয়েছে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর তেলেঙ্গানা ও নকশালবাড়ি আন্দোলনে প্রকম্পিত হয়েছিল সারা ভারত, যার নেপথ্যে ছিল কৃষক শ্রেণি। সেই কৃষক সমাজ আবার মাঠে নেমেছেন ভারতে।

মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) কৃষক সংগঠনগুলোর ডাকে চলছে প্রতীকী ভারত বনধ। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ছাড়া সবগুলো রাজনৈতিক দল সমর্থন জানিয়েছে চলমান উত্তাল কৃষক আন্দোলনে।

বিজেপি সরকারের প্রণীত কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানী দিল্লির সীমানায় আন্দোলনরত কৃষকদের ধর্নার ১৩তম দিনে ডাকা হয়েছে ভারত বনধ। কৃষক সংগঠনগুলো দিল্লির রামলীলা ময়দান বা যন্তর-মন্তরে সমাবেত করতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকার দিল্লির প্রবেশপথে আটকে দেয় কৃষকদের।

মূলত পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থানের কৃষক সংগঠনগুলো এ আন্দোলনের ডাক দিলে হাজার হাজার কৃষক দিল্লি অভিমুখে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অগ্রসর হন। পুলিশের ব্যারিকেডের কারণে তারা দিল্লি প্রবেশের পাঁচটি পথে অবস্থান নেন।

কৃষক বিক্ষোভের জেরে সিংঘু, অওচাঁদী, পিয়াও মানিয়ারি এবং মঙ্গেশ সীমানা দিয়ে দিল্লিতে প্রবেশের সব ট্রাফিক চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। সাধারণ মানুষকে এসব দিকে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কৃষকরা লঙ্গরখানা খুলে সেখানে খাওয়া-দাওয়া করছেন। কৃষি সংক্রান্ত তিনটি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে কৃষকরা অনড় অবস্থান নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

সরকারের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হলেও কৃষি আইন বাতিল না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলো। প্রয়োজনে তারা দিনের পর দিন আন্দোলন করার জন্য সঙ্গে প্রয়োজনীয় খাবার নিয়ে এসেছেন।

বিভিন্ন দল কৃষক আন্দোলনের সমর্থন জানালেও দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। কৃষক সংগঠনগুলো বলেছে যে, তাদের আন্দোলন অরাজনৈতিক। কোনো রাজনৈতিক দল সমর্থন করলে তা কৃষক সংগঠনগুলোর পতাকার নিচে এসে করতে হবে, দলীয় ব্যানারে করা যাবে না।

দিল্লি সীমানায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারী কৃষকদের সঙ্গে দেখা করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল, সমাজবাদী দলের নেতা অখিলেশ যাদব। তারা সেখানে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কৃষক আন্দোলনে তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। কংগ্রেস ও বাম সংগঠনগুলো ছাড়াও ক্ষমতাসীন বিজেপি বিরোধী সবগুলো দলই কৃষক আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে।

কোনো রাজনৈতিক সংশ্রব ছাড়া কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত বিশাল আন্দোলনে ভারতের রাজধানী দিল্লির সবগুলো প্রবেশপথ যেমন বন্ধ হয়ে গেছে, তেমনি জাতীয় রাজনীতিতেও বড় রকমের আলোড়ন তৈরি হয়েছে। দুই দফায় ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে সবগুলো রাজনৈতিক দল মিলেও যে সর্বাত্মক আন্দোলন করতে পারেনি, কৃষক সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ তারচেয়ে বেশি ব্যাপকতা পেয়েছে।

বার্তা সম্পাদক
%d bloggers like this: