Archives

ইসলামপুরজামালপুর

ইসলামপুরে ৬০ থেকে ৮০ টাকার কেজিতে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ

ইসলামপুরে ৬০ থেকে ৮০ টাকার কেজিতে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ

নিজস্ব প্রতিনিধি : মৌসুমের শেষের দিকে রমজান ও গরম থাকায় জামালপুরের ইসলামপুরে প্রতিটি বাজারে চাহিদা বেড়েছে তরমুজের। আর এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীরা কেজি ধরে বিক্রি করছেন তরমুজ। কেজি হিসেবে তরমুজ কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। মাঝে মধ্যে ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের কথা কাটাকাটিও হচ্ছে।

মঙ্গলবার বিকাল ও বুধবার সকালে উপজেলার নিত্য বাজার, থানা মোড়, দেনুয়ার মোড়, রেলগেট, ধর্মকুড়া বাজার,বঙ্গবন্ধু মোড় এলাকার তরমুজের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, খুরচা বিক্রেতারা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি করছেন। বাজারে এবার তরমুজের দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতারা না কিনে চলে যাচ্ছেন। এই গরমে মন চাইলেও অনেকে তরমুজ ছুঁয়ে দেখতে পারছেন না।

তবে পাইকাররা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকে পিস হিসাবে নেওয়া তরমুজ খুচরা বাজারে কেজিতে বিক্রি করার কারণেই ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়ছে তরমুজের। আর ক্রেতারা বলছেন, তরমুজের বাজার এতো চড়া হলেও নেই প্রশাসনের তদারকি। ফলে যে যার মতো করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরমুজ ব্যবসায়ী জানান, ‘বড় পাইকাররা সরাসরি তে থেকে তরমুজ কিনে আনেন, আবার অনেক চাষি তরমুজ নিয়ে বড় পাইকারদের কাছে আসেন। তবে যেভাবেই হোক না কেন পিস হিসেবেই তরমুজের ক্রয়-বিক্রিয় করা হয়। আবার পাইকাররাও এনে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পিস হিসেবেই বিক্রি করে থাকেন এসব তরমুজ’।

তিনি আরও জানান, ‘এবার বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে কেজি ধরে বিক্রি করছি তরমুজ। কেজিতে বিক্রি করলে প্রতি পিসে ৯০ থেকে ১৪০ টাকা লাভ থাকে। তাই আমরা যত খুরচা ব্যবসায়ী আছি সবাই মিলে কেজিতেই বিক্রি করছি। আপনি দেখেন সব জায়গাতেই এক দাম পাবেন কেউ কম দামে বিক্রি করবে না’।

ক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজার থেকে একসঙ্গে অনেক তরমুজ কিনতে হয়, কিন্তু খুচরা বাজারে ভোক্তা তার প্রয়োজন অনুসারে কিনতে পারেন। এ সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা তরমুজ বাজারে সিন্ডিকেট বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। যে কারণে পিস হিসেবে কিনে কেজি হিসেবে সব খুচরা ব্যবসায়ীরাই জোট বেঁঁধে তরমুজ বিক্রি শুরু করেছেন। এতে দ্বিগুণ লাভের আশায় এমনটা করা হচ্ছে।

পৌর শহরের ক্রেতা মিজান মিয়া বলেন, ‘তরমুজের ভেতরের রসালো লাল অংশ টুকুই খাওয়া হয়ে থাকে। সেখানে যে ওজন থাকে তার সমপরিমান ওজন থাকে বাকল বা ছোলাতে। আর ছোলা ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু যখন তরমুজ কিনেছি তখন সেই ফেলে দেওয়া অংশসহ ওজন দিয়েই নিয়েছি’।

পলবান্ধা ইউনিয়নের সিরাজাবাদ এলাকার বাসিন্দা ক্রেতা আলাল মিয়া বলেন, ‘আমার বয়সেও আমি কেজি ধরে তরমুজ কিনি নাই। আমি সবসময় পিস হিসাবেই কিনেছি। কিন্তু এবার সব দোকানেই ৬০ থেকে ৮০টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। যদি প্রশাসনের প থেকে নজরদারি বা তদারকি করতো তাহলে হয়তো ব্যবসায়ীরা যে সিন্ডিকেট করেছে তা বন্ধ হতো।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আজ আমি বাজারে গিয়ে মনিটরিং করে ব্যবস্থা নিবো। যদি কেউ কেজিতে বিক্রি করে থাকে এটা অবশ্যই বন্ধ করার চেষ্ঠা করবো’।

এস আর /জামালপুর লাইভ

বার্তা সম্পাদক
%d bloggers like this: