Archives

জাতীয়

আমার দাদা-দাদি খোকার কোন আবদারে না করেননি: প্রধানমন্ত্রী

আমার দাদা-দাদি খোকার কোন আবদারে না করেননি: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার বাবার একটাই লক্ষ্য ছিল এদেশের মানুষ, যারা একেবারেই ভাগ্যহারা হতভাগ্য তাদের জীবনটা কিভাবে সুন্দর করবেন, সে চিন্তাটাই তিনি করতেন। তিনি বলতেন যে এদেশে মানুষ যদি অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, বাসস্থান পায়, চিকিৎসা পায়, শিক্ষা পায় তাহলেই তার জীবনটা সার্থক। সেই ছোট্টবেলা থেকেই কোন মানুষ যখন কষ্ট পেত, ক্ষুধা-দারিদ্র্যে জর্জরিত হত, নিজের গোলার ধান বিলিয়ে দিতেন, নিজের পড়ার কাপড়টি পর্যন্ত তিনি দিয়ে দিতেন, বই দিয়ে দিতেন, ছাতা দিয়ে দিতেন, যখন যেটা সম্ভব তিনি দিতেন। নিজের খাবার ভাগ করে খেতেন। একটা ছোট্ট শিশু তার ভিতরে যখন এ ধরনের মনমানসিকতা থাকে মানবিকতাবোধ থাকে মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকে, সেই পারে নেতৃত্ব দিতে। সেই পারে যেকোনো অর্জন করতে। সততার পথে চলে তিনি এই দেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন।

বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারপ্রধান একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার দাদা-দাদি তাদের খোকা। বাবাকে খোকা বলেই ডাকতেন। তাদের কাছে খোকা এতই প্রিয় ছিল যে খোকার কোন আবদার তারা কখনো না করেননি। এই যে মানুষের কাছে সবকিছু বিলিয়ে দেওয়ার যে একটা মানসিকতা কখনো তার বাবা-মা আমার বাবাকে বাধা দেন নাই। বরং উৎসাহ দিয়েছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, টুঙ্গিপাড়ার মাটিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এই সবুজ শ্যামল মাটিতে, এই জায়গারই ধুলো মাটি মেখে তিনি বড় হন। একদিকে মধুমতি নদী, আরেকদিকে পায়রা নদী। নদী বিধৌত অঞ্চল থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন। একটি জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাই তো ছোটবেলা থেকে তার জীবনে বড় হওয়ার ঘটনাগুলো দেখলে আমরা দেখব যে তিনি কিন্তু তখন থেকেই তার ভিতরে মানুষের প্রতি দেশের প্রতি একটা ভালোবাসা ছিল। আমাদের দেশের মানুষ অত্যন্ত দরিদ্র ছিল, একবেলা অন্ন পেত না, বাসস্থান ছিল না অনেকেরই, ছিন্ন কাপড়, রোগের চিকিৎসা পেত না, চরম অবহেলার ভেতর দিয়ে তাদের দিন কাটাতে হতো। এমনকি ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যেতে পারত না, পড়াশোনা করবার তেমন কোনো সুযোগ ছিল না। ছোটবেলা থেকে এ অবস্থা দেখে তিনি সবসময় দেশের মানুষের কথা চিন্তা করেছিলেন। যদিও আমার দাদা তাকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন কলকাতার কলেজে রেখে, কিন্তু তিনি এই টুঙ্গিপাড়ার গ্রামের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখেই এই দেশটাকে কিভাবে স্বাধীন করবেন দেশের মানুষকে কিভাবে একটি সুন্দর জীবন দিবেন সেই চিন্তাটাই তার ছিল।

তিনি বলেন, আমবার বাবা একটা চিন্তাই করেছিলেন কিভাবে এদেশের মানুষের জীবনটাকে উন্নত করা যায়, মানুষের জীবনটাকে সুন্দর করে গড়ে তোলা সেটাই তার লক্ষ্য ছিল এবং তিনি সবসময় এই কথাটাই বলতেন। আমি তার লেখায় এবং সব সময় তার কাছ থেকে যে কথাটা শুনেছি যে এদেশের মানুষ যারা একেবারেই ভাগ্যহারা হতভাগ্য তাদের জীবনটা কিভাবে সুন্দর করবেন সে চিন্তাটাই তিনি করতেন। তিনি বলতেন যে এদেশে মানুষ যদি অন্ন পায় বস্ত্র পায় বাসস্থান পায় চিকিৎসা পায়, শিক্ষা পায় তাহলেই তার জীবনটা সার্থক। সে কারণে তার মধ্যে ছোটবেলা থেকেই মানুষকে সাহায্য করার একটা মানসিকতা ছিল। স্কুল জীবনে একজন শিক্ষকের নেতৃত্বে মুষ্টিভিক্ষা করে ধান-চাল সংগ্রহ করে সেগুলি দরিদ্র ছেলেমেয়েদের কাছে পৌঁছে দিতেন। তাদের খাবারের ব্যবস্থা বই কেনার ব্যবস্থা কাপড় কেনার ব্যবস্থা করে দিতেন।

শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোট্ট সোনা বন্ধুরা তোমরা বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী বই পড়ে দেখবে অনেক সময় কেউ কেউ আমার দাদাকে বলেছেন আপনার ছেলে কী করছেন, আপনার ছেলে তো জেলে যাবে আমার দাদার কথা ছিল আমার ছেলেতো দেশের মানুষের জন্য কাজ করছে, সে যেটা করেছে ভালোর জন্য করছে, দেশের মানুষের জন্য কাজ করছে। ঘরের ভাত খায় না হয় জেলের ভাত খাবে কিন্তু সেতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে দেশের মানুষের কাজ করছে, অর্থাৎ এভাবে কিন্তু তিনি বেড়ে উঠেছেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ন্যায়ের পথে চলা সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন এবং সততার সাথে নিজের জীবনকে গড়ে তোলা এটাই তার লক্ষ্য ছিল।

দেশ স্বাধীন করার পরেও শিশুদের তিনি অত্যন্ত ভালোবাসতেন তাদের সাথে খেলাধুলা করতে পছন্দ করতেন। শিশু অধিকার আইন ১৯৭৪ সালে করে দেন। শিশুদের ভালো দেখাশোনা যাতে হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে তিনি শিশুদের জন্য একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। শিশু কেয়ার এন্ড প্রটেকশন সেন্টার। কারণ আমাদের দেশে যুদ্ধে অনেক শিশু যখন তারা পিতা-মাতা হারায় আবার অনেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয় বাণিজ্যেতে মা বোনদের অনেক শিশুর জন্ম নেয়। সেই শিশুদের প্রটেকশনের ব্যবস্থা তাদেরকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ও তিনি শুরু করেছিলেন। তিনি সবসময় এটাই ভাবতেন যে শিশুরা এতে ভবিষ্যৎ। শিশুদের তিনি এত ভালোবাসতেন বলেই আমরা জাতির পিতার জন্মদিনটাকে জাতীয় শিশু-কিশোর দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছি। অর্থাৎ শিশুরা একটি গুরুত্ব পাবে তাদের জন্য একটা দিবস থাকবে সেই সাথে সকলেই তাদের কথা চিন্তা করবে।

শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি জানি করোনার কারণে স্কুল বন্ধ। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না এটা অত্যন্ত কষ্টের, তারপরে আমি বলবো ছোট্ট সোনামনির তোমরা ঘরে বসে পড়াশোনা করো, এবং সেই সাথে খেলাধুলাও করবে কারণ আমরা এটাই চাই খেলাধুলা সংস্কৃতির চর্চা এগুলি একান্তভাবে অপরিহার্য। কারণ তোমরাই তো ভবিষ্যৎ তোমরাই তো এ দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। জাতির পিতা সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন যেখানে কোন ক্ষুধা থাকবে না, দারিদ্র থাকবে না, প্রত্যেক মানুষ ঘর পাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাংলাদেশের একটা মানুষও গৃহহারা থাকবে না।

ছোট্ট সোনামনি তোমাদের নিয়ম-শৃঙ্খলা মানা অভিভাবকদের কথা শোনা শিক্ষকদের কথা শোনা, শিক্ষকদের কথা মেনে চলা এটা কিন্তু খুব দরকার। সব সময় যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আর সেই সাথে ন্যায় ও সত্যের পথে চল তাহলে জীবনে বড় হতে পারবে, জীবনটাকে উন্নত করতে পারবে। আর বাবা-মার মুখ উজ্জ্বল হবে।

ছোট্ট সোনামণি তোমাদের কাছে এটাই চাই তোমরা তোমাদের জীবনটাকে সুন্দর করো, লেখাপড়া শেখো, করোনার এই প্রাদুর্ভাব কেটে যাবে এবং স্কুল আমরা তখনই খুলে দেবো। তোমরা স্কুলে যেতে পারবে, সেই সাথে খেলাধুলা তোমরা করতে পারবে। এবার শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন শিশুর জীবন করো রঙিন।’ আমরা ছোট শিশুদের জীবন আরও রঙিন আরো সুন্দর সার্থক সফল করে গড়ে তুলতে চাই সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হয়েছি এখানে বসে থাকলে চলবে না। বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমরা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ অর্থাৎ মধ্যম আয়ের দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছি। এখন আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। কাজেই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার সবরকম পদক্ষেপ আমরা নিয়ে যাচ্ছি এবং সমস্ত নীতিমালা প্রণয়ন করে রেখে যাচ্ছি। হয়তো আমরা তার চিরদিন থাকবো না কিন্তু ভবিষ্যতে যারা আসবে তারা যেন এই নীতিগুলো অনুসরণ করে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে পারে সেটাই আমরা চাই।সূত্র: বার্তা২৪.কম

এসএসআর/জামালপুর লাইভ

বার্তা সম্পাদক
%d bloggers like this: